আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়-বনবিধি ও বন্য প্রাণী বিধি
বনবিধি ও বন্য প্রাণী বিধি
কোন উদ্ভিদশূন্য অঞ্চলে নতুন করে বনাঞ্চল সৃষ্টি বা সরকারি বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা, অপসারন, পরিবহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধান রয়েছে। এ সব আইন বা বিধানগুলোকে বনবিধি বা বন আইন বলা হয়। বনভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এ উপমাহাদেশে ১৯২৭ সালে বন সংরক্ষণ আইন করা হয়।

পরে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালে এ আইনের বিভিন্ন সংশোধনী আনায়ন করে যা বন আইন ১৯৯০ নামে পরিচিত। এ আইনের ক্ষমতা বলে বনভূমি ও বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং ঐ সব বিধি-নিষেধ লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এ বিধি অনুসারে নিচের কাজগুলো করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ-
১। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারি বনভূমি হতে বনজ সম্পদ আহরণ করা।
২। বিনা অনুমতিতে সরকারি বনাঞ্চলে প্রবেশ করা, ঘরবাড়ি তৈরি ও চাষাবাদ করা।
৩। বনাঞ্চলে গবাদি পশু চরানো।
৪। অনুমতি ছাড়া বনভূমি থেকে গাছ কাটা, অপসারণ ও পরিবহন করা।।
৫। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বনে আগুন দেওয়া, আগুন রাখা বা বহন করা। উল্লিখিত যে কোন অপরাধ সংঘটনকারীর বিচার প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হয়ে থাকে। অপরাধ সংঘটনকারীর কমপক্ষে এক বছর জেল সহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুবছর জেলসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

বন্যপ্রাণী বিধি
বন্যপ্রাণী বনের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। হিস্র বন্যপ্রাণী বনের মূল্যবান সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে একটি আইন প্রণয়ণ করেন যা, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ১৯৭৪ নামে পরিচিত।
এ আইন দেশের সকল স্থানে প্রযোজ্য। এ আইন বলে বন্যপ্রাণী শিকার বা হত্যার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ আইন অনুসারে নিম্নলিখিত কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে
১। শখের বশে বন্যপ্রাণী শিকার করা।
২। বিনা অনুমতিতে সরকারি বন থেকে যে কোন বন্যপ্যাণী শিকার করা বা হত্যা করা অথবা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় বন্য প্রাণী ধরা ।
৩। বিনা অনুমতিতে বন্যপ্রাণী পোষা।
৪। শিকারি পাখি বা কুকুর ব্যবহার করে অন্য কোন বন্যপ্রাণী ধরা ।
উপরোক্ত অপরাধগুলো সংঘটনকারীর বিচার প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়ে থাকে। এ প্রকার অপরাধে দোষী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সর্বনিম্ন ছয় মাসের জেলসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুবছরের জেলসহ জরিমানা হতে পারে।

সারমর্ম
বনভূমি ও বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এ উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ১৯২৭ সালে বন সংরক্ষণ আইন করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালে এ আইনের সংশোধনী আনেন, যা বালাদেশ বন আইন ১৯৯০ নামে পরিচিত। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে একটি আইন প্রণয়ন করেন, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ১৯৭৪ নামে পরিচিত।
